আমাদের প্রতিষ্ঠান পরিচিতি :
ময়নাবাদ, ০৩ নং দেওরগাছ ইউনিয়নে অবস্থিত চুনারুঘাট উপজেলার ছোট্ট একটি গ্রাম। এ গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন শিক্ষার আলো ছড়ানো এক স্বপ্নবাজ মানুষ- মামুনুর রশিদ চৌধুরী। স্বপ্ন দেখেন আলোকিত মানুষ গড়ার। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন "মফিজ উদ্দীন চৌধুরী দাখিল মাদ্রাসা"। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মাদ্রাসাটি তার উদ্দেশ্য ঠিক রেখে কাঙ্খিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলছে, সকল বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে, আলহামদুলিল্লাহ।
প্রতিষ্ঠানটির শুরু থেকে এপর্যন্ত পঞ্চম শ্রেণি থেকে ট্যলেন্টপুল বৃত্তি লাভ করেছে ১৫ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৩২ জন শিক্ষার্থী। অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছে ট্যালেন্টপুল ১৪ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ২৭ জন।
মূলতঃ ২০২০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছে। ২০২১ সালে প্রথম বার পরীক্ষা দিয়েই ০৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পায় তারপর ২২ সালে ১০ জন, ২৩ সালে ০২ জন, ২৪ সালে ০৩ জন, ২৫ সালে ০৫ জন এবং এবছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে এসে ০১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পায়। বিগত ছয় বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলায় সেরা রেজাল্ট করার গৌরব ধরে রেখেছে।
প্রতিষ্ঠানের এই অগ্রযাত্রাকে তরান্বিত করার প্রত্যয়ে এবং বিশেষ করে এঅঞ্চলের নারীদের উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করার দৃঢ় সংকল্প থেকেই জনাব মামুন চৌধুরী ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন- "জাহানারা চৌধুরী উইমেন্স কলেজ"। শুরুর দিকের প্রাতিষ্ঠানিক পথচলা কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই এতটা মসৃন থাকেনা। তবে প্রতিষ্ঠাতা মহোদয়ের স্বপ্ন এবং আন্তরিকতার কাছে হার মেনেছে বিশাল আকাশসম প্রতিবন্ধকতাও। আল্লাহ পাকের অশেষ মেহেরবানিতে শুরুর বছরই প্রতিষ্ঠানটি ইন নাম্বার পায় এবং ৩২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করে।
এবছরই (২০২৬) প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলো। শতভাগ ভালো রেজাল্ট উপহার দিতে পারবো বলে আমরা আশাবাদী। ইতোমধ্যেই আমাদের মেয়েরা জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহসহ অন্যন্য প্রতিযোগিতায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।
এছাড়া আমাদের এই কমপ্লেক্সে রয়েছে একটি জামে মসজিদ, এতিমখানা ও হাফেজি মাদ্রাসা। হিফজ বিভাগে আছে ২২ জন শিক্ষার্থী। যাদের থাকা খাওয়ার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করেন প্রতিষ্ঠাতা মহোদয়।
টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং আধুনিকতার এই যুগে বিশ্বায়নের ক্লাবে সম্পৃক্ত রাখতে শিক্ষার্থীদের রয়েছে "বিজ্ঞান ক্লাব, ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব সহ খেলাধুলার সকল সুযোগ সুবিধা। রয়েছে জ্ঞানের বাতিঘর- লাইব্রেরি। দৈনিক পত্রিকা পড়ার সুব্যবস্থা (প্রথম আলো ও ইনকিলাব)। আছে ৪৫ টি কম্পিউটার সমৃদ্ধ ০২ টি ল্যাব। ওয়াইফাই সুবিধা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সোলার সিস্টেম। সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করণে আছে ৫০ টি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা।
সবচেয়ে শক্তিশালী এবং কার্যকরি ভূমিকা রাখছে যারা- আছেন এমন একঝাঁক তরুণ বুদ্ধি দীপ্ত শিক্ষক- শিক্ষিকা। যাঁরা, প্রতিষ্ঠাতা মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় তাঁর লালিত স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করেন। তিনটি প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন ২৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। রয়েছে একদল (০৫ জন) বিশ্বস্ত এবং আমানতদার কর্মচারী। যারা প্রতিষ্ঠানকে তাদের মায়া-মমতা দিয়ে আগলে রাখেন। আর আছে আমাদের প্রাণভোমরারা (প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী, তিন প্রতিষ্ঠান মিলে), তাদের সম্মানিত অভিভাবক এবং পরম শ্রদ্ধেয় শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ- যাঁরা প্রতিনিয়ত আমাদের কল্যাণ কামনা করেন।
আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো হোক দেশের একখানা জ্ঞানের বাতিঘর।